ISI বা inter services intelligence । এটি উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বড় সিক্রেট সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স। ২০১১ সালে মার্কিন ক্রাইম নিউজ ISI কে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গুপ্তচর বাহিনী বলে আখ্যায়িত করে । সরকারের ভেতরে সরকার নামেও এই সংস্থাটির পরিচিতি রয়েছে। আইএসআইকে বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত গোয়েন্দা সংস্থাও বলা হয়ে থাকে।কয়েক বছর আগে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল, তার বিশ্বাস তাকে হত্যা চেষ্টার পেছনে হাত ছিল দুর্ধর্ষ বাহিনী ISI এর শীর্ষস্থানীয় ৩ জেনারেলের। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই বিতর্কিত দুর্ধর্ষ বাহিনীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
১৯৪৮ সালের পহেলা জানুয়ারি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি অফিসার ও পাকিস্তান সেনা বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল রবার্ট চাওথামের পরামর্শে ও তত্বাবধানে আইএসআই তৈরি হয়।১ম কাশ্মীর যুদ্ধে সাধারণ গোয়েন্দা সংস্থা গুলোর ব্যর্থতার কারণ ধরে তৈরি করা হয় ইন্টার বা আন্ত প্রাতিষ্ঠানিক গোয়েন্দা সংস্থা (ISI)।আইএসআই প্রধানত পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি সার্ভিস শাখা থেকে প্রাপ্ত সামরিক অফিসারদের নিয়ে গঠিত : পাকিস্তান সেনাবাহিনী , পাকিস্তান নৌবাহিনী এবং পাকিস্তান বিমান বাহিনী। সংস্থাটি বেসামরিক লোকদেরও নিয়োগ করে।দেশে-বিদেশে সংস্থাটির সম্ভাব্য সদস্য সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি এবং এর মধ্যে অনেক তথ্য প্রদানকারীও রয়েছে।আইএসআই-এর সদর দফতর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে । শুরুর দিকে আইএসআই পাকতুনখোয়া ও কাশ্মীর অঞ্চলে নজরদারী করতো।প্রাথমিকভাবে এর কাজ তিন বাহিনীর প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে সমন্বয় সাধন করা হলেও ১৯৫০ সাল থেকে একে আদালা করে শুধুমাত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্বার্থ রক্ষা ও অখন্ডতা বজায় রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়।তবে ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক অভ্যুথানের পর যেকোন অভ্যন্তরীন ব্যাপারে ISI এর খবরদারী বেড়ে যায়।তবে আইএসআই এর বিশাল ক্ষমতাধর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হওয়ার পিছনে রয়েছে পাকিস্তানি সামরিক শাসক মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
আশির দশকে সোভিয়েত সমর্থিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে পশ্চিমা বিশ্ব। অর্থ,অস্ত্র ও কৌশলগত সহযোগিতা দিয়ে আফগান মুজাহিদদের জয়ী করার জন্য কাজ করছিল পশ্চিমারা। আর এই অস্ত্র ও অর্থ বন্টনের দ্বায়িত্ব পায় ISI, ব্যস রাতারাতি ISI বনে যায় আন্তর্জাতিক ও ধনী গোয়েন্দা সংস্থা। অনেকের মতে শুরুর দিকে CIA এবং মোসাদের মত সংস্থার সাথে কৌশলগত যোগাযোগ তাদের গড়ে তোলে দক্ষ ও দুর্ধর্ষ।তবে পরবর্তীতে ISI ভারত,বসনিয়া, লিবিয়া, ইরান,ইরাক,কাতার,সিভিয়েত ইউনিয়ন পরবর্তী রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা অপারেশন চালিয়েছিলো। আইএসআই এর বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ পরিচালনার জন্য মনোনীত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং জঙ্গিদের
ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।
স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রায় অর্ধেক সময় দেশটি সামরিক শাসনের কবলে ছিল। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী সরকার গড়তে ও ভাঙতে বড় ভূমিকা পালন করে। সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে আই এস আই রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।এমনকি পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের পেছনেও আই এস আই যুক্ত ছিল। নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সহায়তা এবং বিরোধীতার অভিযোগ রয়েছে ISI বিরুদ্ধে। পাকিস্তান সরকার 2008 সালে আইএসআই এর রাজনৈতিক শাখা কে ভেঙে দেয়। কিন্তু এখনো পাকিস্তানের রাজনীতির অদৃশ্য পরিচালক হিসেবে রয়েছে এই সংস্থাটি।তাই আইএসআই কে বলা হয় "সরকারের ভিতরে সরকার"।
ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), 2011 সালে মার্কিন আদালতে তাদের প্রথম খোলা স্বীকৃতিতে বলেছে যে ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সশস্ত্র করে কাশ্মীরে বিদ্রোহের পৃষ্ঠপোষক এবং তত্ত্বাবধান করে।আইএসআই-এর সমালোচকরা বলছেন যে, এটি একটি রাষ্ট্রের মধ্যে একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং যথেষ্টজবাবদিহি মূলক নয়।
সমালোচকরা যুক্তি দেন যে প্রতিষ্ঠানটি কে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও দায়বদ্ধ হওয়া উচিত।
আজকাল, আইএসআই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে। সংস্থাটি পাকিস্তানের সামরিক কৌশলের একটি অপরিহার্য উপাদান।
১৯৪৮ সালের পহেলা জানুয়ারি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি অফিসার ও পাকিস্তান সেনা বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল রবার্ট চাওথামের পরামর্শে ও তত্বাবধানে আইএসআই তৈরি হয়।১ম কাশ্মীর যুদ্ধে সাধারণ গোয়েন্দা সংস্থা গুলোর ব্যর্থতার কারণ ধরে তৈরি করা হয় ইন্টার বা আন্ত প্রাতিষ্ঠানিক গোয়েন্দা সংস্থা (ISI)।আইএসআই প্রধানত পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি সার্ভিস শাখা থেকে প্রাপ্ত সামরিক অফিসারদের নিয়ে গঠিত : পাকিস্তান সেনাবাহিনী , পাকিস্তান নৌবাহিনী এবং পাকিস্তান বিমান বাহিনী। সংস্থাটি বেসামরিক লোকদেরও নিয়োগ করে।দেশে-বিদেশে সংস্থাটির সম্ভাব্য সদস্য সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি এবং এর মধ্যে অনেক তথ্য প্রদানকারীও রয়েছে।আইএসআই-এর সদর দফতর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে । শুরুর দিকে আইএসআই পাকতুনখোয়া ও কাশ্মীর অঞ্চলে নজরদারী করতো।প্রাথমিকভাবে এর কাজ তিন বাহিনীর প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে সমন্বয় সাধন করা হলেও ১৯৫০ সাল থেকে একে আদালা করে শুধুমাত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্বার্থ রক্ষা ও অখন্ডতা বজায় রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়।তবে ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক অভ্যুথানের পর যেকোন অভ্যন্তরীন ব্যাপারে ISI এর খবরদারী বেড়ে যায়।তবে আইএসআই এর বিশাল ক্ষমতাধর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হওয়ার পিছনে রয়েছে পাকিস্তানি সামরিক শাসক মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
আশির দশকে সোভিয়েত সমর্থিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে পশ্চিমা বিশ্ব। অর্থ,অস্ত্র ও কৌশলগত সহযোগিতা দিয়ে আফগান মুজাহিদদের জয়ী করার জন্য কাজ করছিল পশ্চিমারা। আর এই অস্ত্র ও অর্থ বন্টনের দ্বায়িত্ব পায় ISI, ব্যস রাতারাতি ISI বনে যায় আন্তর্জাতিক ও ধনী গোয়েন্দা সংস্থা। অনেকের মতে শুরুর দিকে CIA এবং মোসাদের মত সংস্থার সাথে কৌশলগত যোগাযোগ তাদের গড়ে তোলে দক্ষ ও দুর্ধর্ষ।তবে পরবর্তীতে ISI ভারত,বসনিয়া, লিবিয়া, ইরান,ইরাক,কাতার,সিভিয়েত ইউনিয়ন পরবর্তী রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা অপারেশন চালিয়েছিলো। আইএসআই এর বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ পরিচালনার জন্য মনোনীত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং জঙ্গিদের
ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।
স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রায় অর্ধেক সময় দেশটি সামরিক শাসনের কবলে ছিল। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী সরকার গড়তে ও ভাঙতে বড় ভূমিকা পালন করে। সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে আই এস আই রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।এমনকি পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের পেছনেও আই এস আই যুক্ত ছিল। নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সহায়তা এবং বিরোধীতার অভিযোগ রয়েছে ISI বিরুদ্ধে। পাকিস্তান সরকার 2008 সালে আইএসআই এর রাজনৈতিক শাখা কে ভেঙে দেয়। কিন্তু এখনো পাকিস্তানের রাজনীতির অদৃশ্য পরিচালক হিসেবে রয়েছে এই সংস্থাটি।তাই আইএসআই কে বলা হয় "সরকারের ভিতরে সরকার"।
ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), 2011 সালে মার্কিন আদালতে তাদের প্রথম খোলা স্বীকৃতিতে বলেছে যে ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে সশস্ত্র করে কাশ্মীরে বিদ্রোহের পৃষ্ঠপোষক এবং তত্ত্বাবধান করে।আইএসআই-এর সমালোচকরা বলছেন যে, এটি একটি রাষ্ট্রের মধ্যে একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং যথেষ্টজবাবদিহি মূলক নয়।
সমালোচকরা যুক্তি দেন যে প্রতিষ্ঠানটি কে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরও দায়বদ্ধ হওয়া উচিত।
আজকাল, আইএসআই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে। সংস্থাটি পাকিস্তানের সামরিক কৌশলের একটি অপরিহার্য উপাদান।
রচনায় : আহমেদ মূসা
সম্পাদনায় : কাকতালীয় রাইটার্স ক্লাব
রেপারেন্সঃ
১|উইকিপিডিয়া
২| Quora.Com
৩|বয়েজ অব ঢাকা
কাকতালীয় প্লাটফর্ম আরো রেগুলার হওয়া চাই
ReplyDeleteধন্যবাদ আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদানের জন্য।
DeletePost a Comment