তথ্যকে বানিজ্যে রুপদানের মাধ্যমে যে প্রচুর মুনাফা অর্জন করা যায় তা এই অব্দি কোনো জাতি চিন্তাও করতে পারেনি।ইহুদিদের থেকেই এই চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।ইহুদীরাই প্রথম তথ্য বানিজ্যকে সাংবাদিকতায় পরিনত করেছিলো।আমরা হয়তো অনেকেই জানি যে ইহুদিরা ভবিষ্যৎ আগে থেকেই জানতে পারে।কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব!একমাত্র স্রষ্টা ব্যাতীত কারো পক্ষেই ভবিষ্যৎ আচ করা সম্ভব নয়।এইবার এই বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি।
খ্রিস্টাবছর গননার পর থেকেই ইউরোপের দেশগুলোতে এক অদ্ভুত কান্ড ঘটা শুরু করে।কোন জায়গায় কি হচ্ছে তা জনসাধারণ আগেই জেনে যেতো নিউজলেটারের মাধ্যমে। যা প্রেরণ করতো মূলত ইহুদিরা।
অনেকেই হয়তো" সেনহাড্রিনের" নাম শুনে থাকবেন।মানে ইহুদিদের গুপ্তসংস্থা কিংবা বৈঠক,যেখানে ইহুদিদের সামগ্রিক কল্যান নিয়ে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতো।এই সভা সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিলোনা।শুধুমাত্র ইহুদিদের ভেতর যারা বিভিন্ন দেশের উচ্চ পযার্য়ের সংস্থাগুলোতে কাজ করতো তাদের নিয়েই অধিবেশনের আয়োজন করা হতো।এদের মধ্যে কেউ থাকতো কোনো দেশের সংসদ উপদেষ্টা, আবার কেউ সামরিক উপদেষ্টা, যাদের কাছে রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মজুদ থাকতো।এদের কাজ ছিলো বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর গুলোতে অঙ্গাঙ্গীভাবে ঢুকে পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মজুদ করা।অবশেষে বছরের একটি নিদিষ্ট সময়ে এই "সেনহাড্রিনের " পক্ষ হতে গুপ্ত বৈঠকের আলোচনা সভার আয়োজিত হতো।এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন রাষ্ট্রের উচ্চ পযার্য়ের ইহুদীরা আসতো এবং সকল তথ্য ফাঁস করে দিতো।এই গুপ্তসভার ব্যাপারে তৎকালীন সময়ের কেউই আন্দাজ করতে পারেনি।তবে তথ্য পাচারের বিষয়টি আন্দাজ করেছিলো ইউরোপিয়ান রাজারা।ফলে সন্দেহ গিয়ে পড়ে ইহুদিদের উপর।এরপর ইহুদিদের বিদেশ ভ্রমনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ইহুদিদের কাছে তথ্য সংগ্রহ করার ব্যাপারটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ জানেন?তাহলে একটি ছোট্ট গল্পের মাধ্যমে জেনে নেই।
রথসচাইল্ড পরিবারের নামটি অনেকেই শুনে থাকবেন।পরিবারটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন Mayer Amschel Rothschild। তিনি তার পাচ জন ছেলেকে ইউরোপের পাচটি দেশে পাঠিয়ে দেন এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যাবস্থার সূচনা ঘটান।সম্রাট নেপোলিয়নকে যখন এলবা দীপে নির্বাসিত করা হয় তখন ইংল্যান্ড ভেবেছিলো ইউরোপ থেকে তার বিদায় ঘটলো।কিন্তু কেউ ভাবেনি নেপোলিয়ান আবার ফিরে আসবে, এমনকি Mayer Amschel Rothschild এর পুত্র Nathan ও চিন্তা করেনি।এরপর সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধ "Battle of Waterloo" শুরু হয়।কিন্তু সেই যুদ্ধে ইংল্যান্ডের কাছে ফ্রান্সের নেপোলিয়ন বাহিনী পরাজিত হয়।
Nathan অনেক ভীরু প্রকৃতির ছিলো, যুদ্ধের পরিস্থিতি দেখে সে ভেবেছিলো ইংল্যান্ড পরাজিত হবে।কারন Nathan প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছিলো ইংল্যান্ড সেনাবাহিনীর পেছনে।এরপর Nathan যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যায় এবং অনেক কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ডের উপকূলে উপস্থিত হয়।সবার কাছে Nathan গুজব রটিয়ে দেয় যে ইংল্যান্ড যুদ্ধে হেরে গিয়েছে।ইংল্যান্ডের জনগণক Nathan এর কথা বিশ্বাস করে যে যার মত করে কম মূল্যে সম্পদ বিক্রি করে দিয়ে ইংল্যান্ড ছাড়তে থাকে।Nathan এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো,সে ইংল্যান্ডের পুরো শেয়ার বাজারটিকে ১ কোটি ডলার দিয়ে কিনে নেয়।কিন্তু ইংল্যান্ডের জনগণ যখন সত্যিটা জানতে পারে ততক্ষনে দেরি হয়ে গিয়েছিলো,মোট জনসম্পদের বিরাট বড় একটি অংশ তখন Nathan এর সিন্দুকে চলে যায়।এভাবেই সত্যি কথা গোপন রেখে মিথ্যা গুজব রটানোর মাধ্যমে কোনো ইহুদি বিরাট সম্পদ লাভ করে।এইরকম ঘটনা ইতিহাসে অনেক আছে।
সেইসময় রাশিয়া ও ফ্রান্সের বড় বড় পত্রিকা গুলো ছিলো ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে। তাই তারা নিজেদের ইচ্ছামত সংবাদ চাপিয়ে দিতো।কুসংস্কার, মিথ্যাচার সৃষ্টি করে সাধারনের মনের ভেতর ভয় ঢুকিয়ে দিতো।ইহুদিদের ক্ষতি হতো বা তাদের কুকর্ম ফাঁস হবে এমন কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করতো নাহ। তারা আসলে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কাজ করতো।ইহুদীরা যে দেশগুলোতে নিজেদের বসতি স্থাপন করতো তারা কখনোই সেই দেশের পক্ষে ভালো কাজ করতো নাহ।বরং তারা সেই দেশের শাসনতন্ত্রকেই শাসন করতো।ইহুদিরাই মিথ্যা তথ্য ছাপানোর মাধ্যমে ফ্রান্সে "ফরাসি বিপ্লবের " সূচনা ঘটায়।
অতীত থেকে বর্তমান অব্দি ইহুদিরা প্রকাশনা শিল্পকে নিজেদের ইচ্ছামত ব্যাবহার করে আসছে।তাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষ যাতে একতাবদ্ধ না হতে পারে,এভাবেই তারা আমাদের জাতীয় চেতনাকে পঙ্গু করে দিয়েছে।ইহুদীরা একের পর এক নিজেদেরকে নিয়ে সাফাই গেয়ে যাচ্ছে আর অন্যের জয়কে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছে।
ইহুদিদের তৈরি বর্তমান মিডিয়া কিংবা সামাজিক মাধ্যম সম্পর্কে জানতে হলে এদের তৈরি প্রটোকল হতে ব্যাখ্যা করতে হবে।
❑ ২য় প্রটোকলের দিকে লক্ষ্য করলে পাই-
"আধুনিক সরকারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অস্র হচ্ছে গণমাধ্যম, যা দিয়ে ইচ্ছামতো জনমত গঠন সম্ভব। গণমাধ্যমের লক্ষ্য হচ্ছে সবসময় সত্যিকারের খবরা-খবর জনগনের নিকট পৌছে দেয়া,রাষ্ট্রের ঘটমান সমস্যাসমূহ নিয়ে গবেষণা চালানো।কিন্তু আমরা এমনটা হতে দেবোনা।আমরা কখনোই গণমাধ্যমকে ইচ্ছামতো খবর ছাপানোর সুযোগ করে দেবোনা।ইতিমধ্যেই সকল গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে চলে এসেছে,এর জন্য আমাদের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।"
❑ ৩য় প্রটোকলটিতে একটি দেশের প্রশাসনকে ভেঙে দেয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে-
"আমাদের(ইহুদিদের) সাহসী সাংবাদিকেরা বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যাক্তিকে নিয়ে প্রতিনিয়ত আক্রমনাত্মক কলাম লিখবে,যা জনসাধারণের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।একসময় এই প্রতিক্রিয়া গণ-আন্দোলনে রুপ নেবে, ফলে সরকার গদি ত্যাগে বাধ্য হবে।"
❑ ষষ্ঠ প্রটোকলে বলা হয়েছে-
" আমরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে জড়িয়ে দেবো।একই সঙ্গে বাজারে ফসলের কিংবা পন্যের দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে -কমিয়ে জনগনের মাঝে গুজল ছড়িয়ে যাবো।কৃষকদের মাঝে সুকৌশলে অরাজকতা ছড়িয়ে দেবো।আত্মতৃপ্তির উপায় হিসেবে যুবদের এবং কৃষকদের মাঝে মদ্যপানের ব্যাপারটিকে সাধারণ করে ফেলবো।ফলে তারা ধীরে ধীরে জ্ঞানশূন্য জাতিতে পরিণত হবে।"
❑ বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে গণমাধ্যমের অপরিহার্যতা ৭ম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
"আমরা জ্যান্টাইল সরকারদেরকে উস্কে দেবো, যাতে তারা প্রতিবাদী কিংবা ইহুদি বিরোধী জনগণের বিরুদ্ধে পালটা ব্যাবস্থা গ্রহণ করে।আমাদের কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারের পক্ষে কাজ করবে। এর ফলে সরকারের সাথে জনগণের সম্পর্ক দা-কুমড়োয় রূপ নেবে;আর আমরা এটাই চাই।"
বিদ্র: জ্যান্টাইল হলো নন ইহুদী
ইহুদিরা এমন অনেক গণমাধ্যমের জন্ম দিয়েছে -যেখানে নিযুক্তরা সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ধোঁকা দিয়ে আসছে।এরা মানুষের উপকারের নাম করে নিছক অভিনয় করে আসছে।সাধারণ মানুষ ভাবে বুঝি এরা তাদের জন্যই কাজ করে কিন্তু এটাই ইহুদিদের চক্রান্ত।সাধারণ মানুষ যখন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে এইসব প্রতিষ্ঠানে যায় তখন তারা নিজেদের অজান্তেই নিজেদের গোপনীয়তা ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে তুলে দেয়।
* সাংবাদিকদিকতা শিল্পে ইহুদিদের ৩ টি সারি রয়েছে।মূলত এই কৌশলগুলোকে লালন করে ইহুদিরা সাধারণ মানুষের মন জয় করে রেখেছে। সেই সারিগুলোগুলো হলো-
১.প্রথম সারিতে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান থাকবে, যারা খুবই গোপনীয়তার সাথে ইহুদিদের পক্ষে কথা বলবে।আন্তর্জাতিক পযার্য়ে ইহুদিরা অপদস্ত হবে এমন সংবাদ প্রকাশ করা যাবেনা।বরং বাজারে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান (যেসব প্রতিষ্ঠানের উপর ইহুদিদের হস্তক্ষেপ নেই)ইহুদিদের বিপক্ষে কথা বলবে তবে ইহুদিদের জন্য কাজ করা প্রথম সেক্টরের সংবাদমাধ্যম গুলো তাদের পালটা জবাব দিয়ে নিউজগুলো ধামাচাপা দিয়ে দেবে।
২.এই সারির প্রতিষ্ঠান গুলো হবে আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মত।যারা ইহুদি এবং সাধারণ জনগনের(জ্যান্টাইল)পক্ষে কাজ করে যাবে।তাদের উদ্দেশ্য মূলত নিরপেক্ষ শ্রেনির পাঠকদের আকৃষ্ট করা।
৩.তৃতীয় সারির প্রতিষ্ঠানগুলো স্পষ্টত ইহুদিদের বিরোধিতা করবে।সমাজের যেসব মানুষ ইহুদিদের বিপক্ষে কথা বলবে বা ইহুদিদের নিজেদের শত্রু মনে করবে তারা এই সারির প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের দলভুক্ত মনে করবে।কিন্তু এইগুলোও যে ইহুদিদের প্রতিষ্ঠান তা মোটেও টের পাবেনাহ।ফলে সাধারণ মানুষ ইহুদিদের নিয়ে রাখা সকল আগাম পদক্ষেপ এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে জানিয়ে দেবে।এতে করে সকল তথ্য ইহুদিদের কাছে চলে যাবে।
* উপরোক্ত প্রটোকল কিংবা গণমাধ্যমের সেক্টরগুলো থেকে আমরা ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছি ইহুদীদের চক্রান্তগুলো কতটা নিখুঁত এবং গোছানো;সকল ক্ষেত্রেই ইহুদিরা তথ্যের গোপনীয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে।
ইহুদিরা তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে অষ্টাদশ শতাব্দীতে পোল্যান্ডের বিখ্যাত শহর ক্রাকউতে একজন ইহুদি ব্যাংকার যার নাম ছিলো Baron Moses Montefiore ইহুদি জ্ঞাতীগোষ্ঠীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন-
"তোমরা কী সব ফালতু বিষয় নিয়ে কথা বলছো?যতদিননা এই পুরো গণমাধ্যম আমাদের সাথে আছে ততদিন অব্দি এই বিশ্ববাসী আমাদের কিছুই করতে পারবেনা।"
ইহুদিদের তৈরি এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকাশ্যে বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে কথা বলবে।যেমন:সমাজতন্ত্র, শাসনতন্ত্র,প্রজাতন্ত্র, রাজতন্ত্র,নৈরাজ্যবাদ ইত্যাদি। সাধারণ মানুষ এইসব মতবাদকে নিজেদের কল্যান ভেবে বুলি আওড়াবে।আদৌতে এইসব সংবাদমাধ্যমের মূল নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে ইহুদিদের হাতে।"Jewish Encyclopedia "পড়লে দেখা যাবে এমন অনেক বড় বড় সংবাদপ্রতিষ্ঠানের কথা,যেগুলো ইহুদিদের বিপক্ষে মুখ খুলতে গিয়েই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।কারন ইহুদিরা সত্যিকে বড্ড ভয় পায়।সত্য হচ্ছে ইহুদিদের কাছে সাপের বিষের মত।পৃথিবীতে সত্যের চেয়ে বিষাক্ত আর কিছু হতে পারেনা,যা এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীটি ভয় পায়।তাদের গোপন কিছু ফাঁস হয়ে যাওয়ার মানে হলো -তাদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
লেখক : মাতিন রায়হান ( SI & WRITER)
রেফারেন্স -সিক্রেটস অব জায়োনিজম (হেনরি ফোর্ড),জিউস এনসাক্লোপিডিয়া
পর্ব :০৩ ,আসছে শিগ্রই....
Xosss
ReplyDeleteAwesome.
ReplyDeletePost a Comment